মরার পরেও বেলাব শিক্ষা অফিসারের ঘুষের টাকা পরিশোধ! - NCB News24
ঢাকামঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকের সর্বশেষ সবখবর

    মরার পরেও বেলাব শিক্ষা অফিসারের ঘুষের টাকা পরিশোধ!

    নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি
    এপ্রিল ২১, ২০২৬ ১:২০ পূর্বাহ্ণ
    শিক্ষা অফিসার জুলেখা


    নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। উপজেলা শিক্ষা অফিসার জুলেখা শারমিনের যোগদানের পর থেকেই নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনজন শিক্ষক মৌখিকভাবে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    তারা হলেন— পোড়াদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোরাদ মিয়া, সররাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাউছার মিয়া এবং আব্দুল্লানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য প্রয়াত শিক্ষক আতাউল রহমান। অভিযোগ রয়েছে, নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পাঠদান বাদ দিয়ে তারা দীর্ঘদিন উপজেলা শিক্ষা অফিসে দায়িত্ব পালন করতেন এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের কাজে ব্যবহৃত হতেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন থেকে অর্থ আদায়, নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের বাণিজ্য এবং শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনসহ নানা অনিয়মে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল।

    এরই মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষক আতাউল রহমান মৃত্যুবরণ করেন। তবে মৃত্যুর পরও তাকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— শিক্ষা অফিসারের ঘুষের টাকা পরিশোধের চাপ পড়ে তার পরিবারের ওপর।

    অভিযোগ রয়েছে, আসলাম সানি সরকারি বিদ্যালয়ে শিমু নামের এক শিক্ষিকা বদলির জন্য ৫০ হাজার টাকার লেনদেন হয় শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে। এই লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী ছিলেন আতাউল রহমান। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ২০ হাজার টাকা পরবর্তীতে দেওয়ার কথা ছিল।

    কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ মেটাতে ওই টাকা ব্যয় করেন আতাউল রহমান। পরে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে স্ত্রীর কাছে ওই বকেয়া টাকা পরিশোধের কথা বলে যান বলেও পরিবারের দাবি।

    অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে— শিক্ষা অফিসে কাজ করা অপর দুই শিক্ষক আতাউল রহমানের কাছ থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রায় দুই লাখ টাকা ধার নেন। তার মৃত্যুর তিন মাস পর সেই টাকা পরিশোধ করা হলেও শিক্ষা অফিসারের দাবিকৃত ২০ হাজার টাকা সেখান থেকে সমন্বয় করা হয়।

    মৃত্যুর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও আতাউল রহমানের প্রাপ্য বিল এখনো বেলাব উপজেলা ট্রেজারিতে আটকে আছে বলে জানা গেছে। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তার পরিবার। শিক্ষা অফিসারের কাজ করার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে দুই শিক্ষক।

    আতাউল রহমানের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
    “আমার স্বামী সারাদিন শিক্ষা অফিসের কাজ করতো। সবসময় ফোন আসতো, ঠিকমতো ঘুমাতেও পারতো না। এখন আমি চার সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এখনও তার বিল পাইনি, শুধু তারিখ দিয়ে ঘুরানো হচ্ছে।”
    এদিকে, উপজেলায় তিনজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কর্মরত থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্তভাবে শিক্ষকদের দিয়ে এ ধরনের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বেলাব উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাফসা নাদিয়া এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার জুলেখা শারমিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।
    স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা হোক।