শেষ কলটি ছিল হেডকোয়ার্টারে: এক সাহসী সেনা কর্মকর্তার করুণ পরিণতি - NCB News24
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকের সর্বশেষ সবখবর

    শেষ কলটি ছিল হেডকোয়ার্টারে: এক সাহসী সেনা কর্মকর্তার করুণ পরিণতি

    এনসিবি প্রতিবেদক
    ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
    দেশ বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন সাহসী সেনা কর্মকর্তা


    মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি হেডকোয়ার্টারে ফোন করে বলেছিলেন,
    “হ্যালো হেডকোয়ার্টার, আমি কর্নেল গুলজার বলছি… কিছু ফোর্স পাঠান প্লিজ। ওরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।”
    চল্লিশ মিনিট পর শোনা যায় তার শেষ আর্তনাদ—
    “অনেক অফিসারের লাশ মেঝেতে পড়ে আছে… আপনারা কি আসবেন না আমাদের বাঁচাতে?”
    এই কণ্ঠস্বর ছিল এক সাহসী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তার।
    জঙ্গিবাদ দমনে অগ্রণী ভূমিকা
    ২০০৪–০৫ সালে যখন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) সারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল, তখন তার দক্ষ নেতৃত্ব ও সুপরিকল্পিত অভিযানে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। দেশজুড়ে স্বস্তি ফিরে আসে।
    শীর্ষ জঙ্গি শায়েখ আব্দুর রহমান-কে সিলেট এর সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে বিনা রক্তপাতে আটক করার ঘটনাটি ছিল তার অসাধারণ গোয়েন্দা কৌশলের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। যদিও সে সময় পুরো বাড়ি ধ্বংসের নির্দেশ ছিল বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জঙ্গি দমনে তার দক্ষতার প্রশংসা প্রকাশিত হয়েছিল।
    আরেক শীর্ষ জঙ্গি ‘বাংলা ভাই’-কে আটক করার অভিযানের সময় তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী ঝুঁকি না নেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন—
    “তোমার সাহস তো কম না! তুমি আমাকে নিষেধ করছ আমার দেশের মানুষকে বাঁচাতে! তোমাদের জন্য আল্লাহ আছেন, আমার জন্যও আছেন। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে।”
    মর্মান্তিক পরিণতি
    তিনি ঘটনার মাত্র দশ দিন আগে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এ যোগদান করেছিলেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধস্তন সদস্যদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না।
    তবুও হত্যাকাণ্ডের ১১ দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা ছিল অত্যন্ত বিকৃত অবস্থায়। হৃদয়বিদারক বিষয় হলো—তার ছোট সন্তানই বাবার নিথর দেহ শনাক্ত করে।
    স্মরণে এক দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা
    সহকর্মী ও স্বজনদের মতে, তিনি ছিলেন কর্তব্যপরায়ণ, সাহসী এবং মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন একজন কর্মকর্তা। জঙ্গিবাদ দমনে তার অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।