জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি। তিনি বলেন, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে এই দেশ আমাদের সকলের এবং রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা। বর্তমান সরকারকে অতীতের ভুলভ্রান্তি শুধরে এই অঞ্চলকে একটি নিরাপদ ও দূষণমুক্ত বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করে যেতে হবে।
বুধবার রাজধানীর সাদেক হোসেন খোকা মাঠে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কমিটি-২০২৬ এর আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ মোতালিব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায়, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিন এবং অফিসার্স কাউন্সিলের সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তোমরাই এদেশের ভবিষ্যৎ এবং তোমাদের হাত ধরেই আগামী দিনের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট এবং গার্লস গাইডের কুচকাওয়াজের বিশেষ প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের শৃঙ্খলামূলক চর্চা শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেমের তাড়না সৃষ্টি করে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের কার্যক্রম থাকা আবশ্যক বলে তিনি মনে করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে যে শোষণ-বঞ্চনার সৃষ্টি হয়েছিল, তার বিরুদ্ধেই নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই অর্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব।
সোহরাওয়ার্দী কলেজের উন্নয়নের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ইতিপূর্বে জনসভায় তিনি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রক্ষায় তিনি বদ্ধপরিকর। এই সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের উচ্চ মহলে জোরালো ভূমিকা রাখারও আশ্বাস দেন তিনি। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।







