সুনামগঞ্জের একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে আপত্তিকর সামগ্রী পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিনভর বিক্ষোভ করেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর হোস্টেল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের প্রধানকে ছাত্রী হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, সম্প্রতি ছাত্রী হোস্টেলের একটি বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে বালতিভর্তি যৌন সুরক্ষাসামগ্রী (কনডম) পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল অস্থায়ীভাবে ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অবস্থান নিয়েছিল। সে সময় হোস্টেলে শিক্ষার্থীরা ছিলেন না। পরবর্তীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় এসব সামগ্রী দেখতে পাওয়ার দাবি করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজ ক্যাম্পাসে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। বিকেল পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বিক্ষোভকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিকেলে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিশ্চিত করেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে হোস্টেল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের প্রধানকে ছাত্রী হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







