চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান হাফিজ নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত হাফিজুর রহমান জীবননগর উপজেলা রোডে অবস্থিত ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর স্বত্বাধিকারী এবং উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদীকে তুলে নিয়ে গিয়ে হামলার একটি ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জেরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শনিবার রাতে এই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাসাদহ বাজারে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে হাফিজুর রহমান হাফিজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
সংঘর্ষের পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাফিজের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর রেফার করেন। পরবর্তীতে যশোর থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। এছাড়া সংঘর্ষে আহত আরও তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো জীবননগর ও হাসাদহ এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে জীবননগর থানা পুলিশ এলাকায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে এবং বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।







