দুই বছর ধরে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করেই ইচ্ছামত নম্বর - NCB News24
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকের সর্বশেষ সবখবর

    দুই বছর ধরে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করেই ইচ্ছামত নম্বর

    বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি
    এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১২:৫২ অপরাহ্ণ
    আবদুল্লাহ নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেলাবো- নরসিংদী।


    বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করে নতুন বছরে নতুন শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা। হয়ত কেউ ভালো পরীক্ষা দিয়ে কম নম্বর পেয়েছে। আবার কেউ হয়ত পরীক্ষায় ভালো না করে বেশি নম্বর পেয়েছে।

    শুনতে অবাক লাগলেও এমনব ঘটনা ঘটেছে বেলাবো উপজেলার আমলাবো ইউনিয়নে অবস্থিত আবদুল্লাহ নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নানান সমস্যা আর দূর্নীতির চিত্র। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করে নম্বর দিয়েছেন ।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত (৩য় প্রান্তিক) বার্ষিক পরীক্ষা এবং ২০২৫ সালের অনুষ্ঠিত (১ম প্রান্তিক) ১ম সাময়িক ও ৩য় প্রান্তিত বার্ষিক পরীক্ষার বেশ কিছু খাতায়।

    ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের ২ তারিখে অনুষ্ঠিত ৩য় প্রান্তিক পরীক্ষায় চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি,৫ম শ্রেনির বাংলা,ইসলাম শিক্ষা,২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ১ম প্রান্তিক পরীক্ষায় ৫ম শ্রেণির বাংলা,বিজ্ঞান,চতুর্থ শ্রেণির গণিত,৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান খাতা এখনো মূল্যায়ন করা হয়নি।অথচ পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে নতুন ক্লাসে এবং মাধ্যমিক শ্রেণিতে ওঠেছে শিক্ষার্থীরা।

    অনুসন্ধানে জানা যায়,এ বিষয়ের বেশিরভাগ খাতা মূল্যায়ন না করে নম্বর দেওয়া হয়েছে। এমনকি নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্নই মূল্যায়ন করা হয়নি। শুধুমাত্র ফলাফল শিটে ইচ্ছামত নম্বর বসিয়েছেন শিক্ষকরা। এমন কি ২০২৪ সালের ১ম ও ২য় শ্রেণির কোনো খাতাই মূল্যায়ন করা হয়নি।শুধু মৌখিক ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ফলাফল। নিজের মত নম্বর শিট তৈরি করে ফলাফল জমা দিয়েছেন শিক্ষক।

    অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক নিজে খাতা মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থী বা বাসার অন্য কাউকে দিয়ে মূল্যায়ন করে নেন। এমন কি বিগত বছর গুলোতেও খাতা মূল্যায়ন না করে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হয়েছে। যা মেধা বিকাশে অন্তরায়। ফলে শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে পরীক্ষা খাতার মূল্যায়নের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। পছন্দের শিক্ষার্থী বা যারা প্রাইভেট পড়ে তাদের বেশি নম্বর দেওয়ার বেশ প্রচলন রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন অভিভাবক বলেছেন,খাতা মূল্যায়ন না করে নম্বর দেওয়ার ঘটনা এ প্রতিষ্ঠানে নতুন কিছু নয়। প্রায় পরীক্ষায় এভাবে অনেক শিক্ষক মূল্যায়ন না করে নম্বর বসিয়ে দেন। প্রধান শিক্ষক বা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে এভাবে শিক্ষকরা ফাঁকি দেন বলে দাবি করেন তারা।
    সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, শুধু খাতা মূল্যায়ন ছাড়া নম্বর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই শিক্ষকদের দৌরাত্ম্য।
    কোচিং, প্রাইভেট পড়ানো বা নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তারা। ফলে সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা নিয়ে নেন। তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়েছে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নেও। এমনকি টেবিলের উপরে পা রেখে ঘুমানোর একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে অত্র প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষিকার।
    বিদ্যালয়টির গত বার্ষিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করে কিভাবে ফলাফল তৈরী করা হলো এ বিষয়ে উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এ বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও এডহক কমিটির সভাপতি জুলেখা শারমিন বলেন, এটি কোনোভাবে মেনে নেওয়ার মত নয়। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন না করে নম্বর দেওয়ার মত কাজ তো একজন শিক্ষক করতেই পারেন না। ইতিমধ্যে ২ জন শিক্ষককে ডেপুটিশনে পাঠানো হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে ডিজি মহোদয়ের নির্দেশে বাকি দুইজনকেও ডেপুটিশনে দিব। ইতিমধ্যে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জামার উদ্দিন এবং মোঃ ইউসুফ মিয়াকে আহবায়ক করে ২ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।তারা আগামী সপ্তাহ অর্থাৎ ৯ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত রিপোর্টে জমা দিবে। তদন্ত রিপোর্ট যদি দায়িত্বে গাফিলতি কিংবা অপরাধ প্রমানিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    রেজাউল আলম বিজয়
    NCB NEWS 24