বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেছেন, স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৮১ সালে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহঃ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উলামায়ে কেরাম ও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ছিলেন। ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার পক্ষে মুসলমানরা যাতে ভোট দিতে পারে সেজন্য তিনি বটগাছ প্রতীক নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছিলেন। খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করাকে তিনি আহাম্মুল ফারায়েজ তথা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে বিবেচনা করতেন।
উলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ থাকলে আজ বাংলাদেশের মানুষ দেশে কাঙ্খিত ইসলামী হুকুমত দেখতে পেত। ইসলামী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া দেশে কোরআন সুন্নাহর শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। নিজেদের মধ্যে হযরত হাফিজ্জী হুজুর রহ ,এর চেতনা ধারণ করে সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে দলভুক্ত করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আজ ৭ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় খেলাফত আন্দোলন নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আমীর মুফতি মোশাররফ হোসেন রায়পুরীর সভাপতিত্বে এবং জেল সাংগঠনিক সম্পাদক
মাওলানা গাজী ইসমাঈল ভাঁওয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী,
যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী,
প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মাওলানা জালালুদ্দিন সরকার ও
মোঃ আব্দুল্লাহ টিটু, মোঃ মিজানুর রহমান মৃধা, মাওঃহরুনোর রশিদ, মাওঃআবুহানিফ, মোঃমাহবুবুর রহমান (সাকিল) মাওলানা আঃ হামিদ খান ভাসানী প্রমুখ।
মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, তওবার রাজনীতির প্রবর্তক হাফেজ্জী হুজুর রহ.ছিলেন জামানার একজন মুজাদ্দিদ। আল্লাহর অলি, রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক নেতা। তিনি জীবনের শুরু থেকেই শেষ পর্যন্ত সর্বদা চেষ্টা করেছেন মানুষকে আল্লাহর সাথে জড়িয়ে দেওয়ার। মানুষকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করার, ব্যক্তিগত জীবন সামাজিক জীবন রাষ্ট্রীয় জীবনে কোরআন সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত করার জন্যই ১৯৮১ সালে বাংলার জমিনে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়ে গণমানুষের মধ্যে ইসলামী জাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। হাফেজ্জী হুজুর রাজনৈতিক অঙ্গনে না আসলে আজ হয়তো ইসলামবিদ্বেষীরা রাজনীতি অঙ্গন দখল করে নিতো। আমাদেরকে খেলাফত আন্দোলনের পতাকা তলে সমবেত হয়ে ইসলামী হুকুমত কায়েম করে হাফেজ্জী হুজুরের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আলহাজ্ব আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি বলেন, হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহঃ একজন খালেছ আল্লাহর ওলী ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন হক্ব। আমি সকল হক্কানী আল্লাহর অলীদেরকে ভালো বাসি। রাজনৈতিক দল হিসেবে খেলাফত আন্দোলন করি এবং করেই যাবো ইনশাআল্লাহ। উপস্থিত নেতাকর্মীদেরকে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করা এবং এখলাছের সাথে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী বলেন, খেলাফত আন্দোলন প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে অদ্যাবধি মুরব্বিদের পরামর্শ এবং দলের মজলিসে শূরা ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম খেলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করেন। এখলাছের সাথে কাজ করতে থাকলে আল্লাহ তাআলা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবেন। এই দলের নেতা কর্মীরা একদিন ইমাম মাহদী আঃ এর সৈনিকদের অন্তর্ভুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।







