নরসিংদীতে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে শায়েস্তা করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ্দুল্লাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি চরাঞ্চলে পুলিশের ওপর হামলা, ছয় পুলিশ সদস্যকে মারধর, লাঞ্ছিত করা এবং কান ধরে উঠবস করিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। “পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলা, ৬ সদস্যকে লাঞ্ছিত ও কান ধরে উঠবস” শিরোনামে প্রকাশিত ওই সংবাদকে কেন্দ্র করেই সাংবাদিক সঞ্জিত সাহাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
সঞ্জিত সাহা চ্যানেল ২৪, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও জাগোনিউজ২৪ ডটকমের নরসিংদী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
জানা যায়, শনিবার (২৩ মে) রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে আসাদ্দুল্লাহর ব্যবহৃত একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সাংবাদিক সঞ্জিত সাহার মোবাইলে ফোন করা হয়। প্রায় সাত মিনিটের কথোপকথনে তাকে দেখে নেওয়া, শায়েস্তা করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে অশালীন মন্তব্যও করা হয় বলে দাবি করেন ওই সাংবাদিক।
সাংবাদিক সঞ্জিত সাহা বলেন, “তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সত্য ঘটনা তুলে ধরায় আমি হুমকি ও ভয়ভীতির মুখে পড়েছি। এখনো কিছু মানুষ গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে। এভাবে চলতে থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতা হুমকির মুখে পড়বে।”
এ ঘটনায় সচেতন সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মাখন দাস বলেন, “কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রেসক্লাবে এসে কথা বলতে পারে। যদি কোনো ভুল থাকে আমরা তা যাচাই করে দেখব। কিন্তু সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যেভাবে ঘটেছিল পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা
উল্লেখ্য, গত ২১ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদী সদর মডেল থানার ছয় সদস্যের একটি পুলিশ দল আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও সাতপাড়া এলাকায় একটি মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। অভিযানে ছিলেন এসআই রামকৃষ্ণ দাস, এসআই কামরুজ্জামান খান, এসআই আল নোমান মুন্সি, এএসআই নাজমুল হোসেন, এএসআই সুমন মিয়া ও কনস্টেবল হাদিস মিয়া।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং অনুমতি ছাড়া এলাকায় প্রবেশের কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে শতাধিক লোক জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া দেয়। পরে তাদের মারধর, লাঞ্ছিত ও কান ধরে উঠবস করানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
পরে ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। আর সেই সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই সাংবাদিক সঞ্জিত সাহাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।







