চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নিজের আট বছরের সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার এক নৃশংস ঘটনায় বাবা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে জীবননগর থানা পুলিশ ও ডিবি (সিসিআইসি) টিমের যৌথ অভিযানে অপহৃত শিশু সিয়ামকে (০৮) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম সিয়ামের মা বর্তমানে প্রবাসে (ভারত) অবস্থান করছেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত ১৭ মার্চ বিকাল আনুমানিক ৫:৩০ ঘটিকায় সিয়ামের পিতা মোঃ আজিজুল (২৮) তার এক সহযোগীকে সাথে নিয়ে নিজ সন্তানকে অপহরণ করে।
অপহরণের পর শিশুটিকে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গলায় ধারালো অস্ত্র (হাসুয়া) ধরে ছবি তোলা হয়। সেই ছবি মায়ের কাছে পাঠিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেয় পাষণ্ড পিতা।
ঘটনাটি চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান মহোদয়ের নজরে আসলে তিনি তাৎক্ষণিক জীবননগর থানা ও ডিবি পুলিশকে উদ্ধারের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানে নামে।
অভিযানের একপর্যায়ে রাত ৯:৩০ ঘটিকায় জীবননগর থানাধীন পাকা দাসপাড়া এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. মোঃ আজিজুল (২৮) (ভিকটিমের পিতা), পিতা- মৃত আব্দুর রহমান, সাং- মুরারীকাটি, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
২. মোঃ আক্তার (২৬) (সহযোগী), পিতা- মৃত আব্দুল মজিদ, সাং- দক্ষিণপাড়া, জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা।
অভিযানকালে অপহৃত শিশু সিয়ামকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করার পাশাপাশি ভিকটিমের জীবন রক্ষার্থে বিকাশে পাঠানো ১০,৩০০/- টাকার মধ্যে ৭,০০০/- টাকা এবং অপরাধে ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়াটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘৃণ্য অপরাধের প্রেক্ষিতে আটককৃতদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ জননিরাপত্তা রক্ষায় এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।







